দেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোর শরিয়াহ্ সুপারভাইজরি কমিটি (এসএসসি) পরিচালনায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের ব্যবসায়িক স্বার্থ অথবা পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্যের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউ এসএসসির সদস্য হতে পারবে না। এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশীদার বা নির্বাহী পদে থাকা অবস্থায় সে প্রতিষ্ঠানটি কর বা ঋণখেলাপি হলেও তিনি এসএসসির সদস্য হওয়ার শর্ত পূরণ করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে গতকাল এ নির্দেশনা দেয়া হয়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা, নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইসলামী ব্যাংকে স্বাধীন এসএসসি গঠন ও তার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।
প্রতিটি ব্যাংকের শরিয়াহ্ সুপারভাইজরি কমিটি ন্যূনতম তিনজন ও সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ইসলামী শরিয়াহ্, ফিকহ, অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আইন বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
সার্কুলারে এসএসসির সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ব্যাংকের সব পণ্য ও সেবা শরিয়াহ্সম্মত কিনা তা নিশ্চিত করা, নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করা, শরিয়াহ্ অডিট ও কমপ্লায়েন্স তদারকি করা এবং গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়াই হবে এসএসসির দায়িত্ব ও কর্তব্য।
এসএসসির প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী লিখিত আকারে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বছরে অন্তত তিনবার কমিটির বৈঠক করা বাধ্যতামূলক। কমিটির সুপারিশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং তা বাস্তবায়ন কতদূর হলো তার লিখিত প্রতিবেদনও এসএসসি তদারকি করবে।
এসএসসির সদস্যদের আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে। এসএসসির সদস্যরা প্রত্যেকে ২৫ হাজার টাকা করে মাসিক এবং প্রতিটি সভার জন্য সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। এক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ছয়টি সভা করতে পারবেন তারা।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে দেশের শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও গ্রাহকের আস্থা আরো সুদৃঢ় হওয়ার আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।